সর্বশেষ আপডেট : ১৬ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুই পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার ::

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় পলাতক সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া পুলিশের দুই সদস্য কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুন অর রশিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামি বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলার ছয় আসামির মধ্যে একমাত্র আশেক এলাহী কারাগারে রয়েছেন। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক। রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হয়।

রায়ের আগে ক্ষোভ প্রকাশ রায়হানের মায়ের

রায় ঘোষণার আগে আদালতে উপস্থিত হন নিহত রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম। প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সালমা বেগম বলেন, “এই রায় শুনে আমি কী করব? আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে, তারা তো পালিয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে একজনেরও জামিন হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পরও কীভাবে প্রথম তিনজন আসামি জামিন পান? জামিন পেয়ে কীভাবে তাঁরা পালিয়ে যান?”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা শাস্তি পাচ্ছেন না। তাঁরা শাস্তি না পেলে আমার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে যাবে।”

যেভাবে নির্যাতনে মৃত্যু হয় রায়হানের

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। তদন্তে রায়হানকে নির্যাতনের তথ্য উঠে আসে।

ঘটনার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে আটক করা হয়। এর আগে এ মামলায় কনস্টেবল হারুন অর রশিদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাঁরা হলেন সাবেক এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন ও আবদুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তাঁর জামিন স্থগিত হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিনের বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণা করা হলেও পাঁচ আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার এবং সাজা কার্যকরের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: